Tuesday, May 10, 2016

নীলনদের প্রতি ফারুখে আযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পাঠানো খোলা চিঠি কি লেখা ছিল সেই চিঠিতে।

মিসরবাসীগণ হযরত আমর ইবনে আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট আবেদন জানান যে, আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর এবংওই কৃষিকর্ম নীলনদের উপর নির্ভরশীল। আর নীল নদের একটি স্বভাব হচ্ছে প্রতি বছর তার মধ্যে একটি অতি সুন্দরী কুমারী কন্যা নিক্ষেপ করতে হয়। এরূপ না হলে নীলনদ প্রবাহিত হয় না। পানি বাড়ে না, ফলে কৃষিক্ষেতে সেচ দিতে না পায় ফসল উৎপাদন হয় না এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
হযরত আমর ইবনে আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঘটনাটি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ফারূক্বে আ’যম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অবহিত করেন। তিনি জবাবে বলেন, পবিত্র দ্বীন ইসলাম এরূপ বর্বর নৃশংস কুফরী প্রথাসমূহের অনুমতি দেয় না এবং তিনি একখানা পত্র নীলনদের নামে প্রেরণ করলেন।
পত্রখানা এই-
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
” ﻣﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻤﺮ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺇﻟﻰ ﻧﻴﻞ ﺃﻫﻞ ﻣﺼﺮ، ﺃﻣﺎ ﺑﻌﺪ، ﻓﺈﻥ ﻛﻨﺖ ﺇﻧﻤﺎ ﺗﺠﺮﻱ ﻣﻦ ﻗﺒﻠﻚ ﻭﻣﻦ ﺃﻣﺮﻙ ﻓﻼ ﺗﺠﺮ ﻓﻼ ﺣﺎﺟﺔ ﻟﻨﺎ ﻓﻴﻚ، ﻭﺇﻥ ﻛﻨﺖ ﺇﻧﻤﺎ ﺗﺠﺮﻱ ﺑﺄﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻮﺍﺣﺪ ﺍﻟﻘﻬﺎﺭ، ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺠﺮﻳﻚ ﻓﻨﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻥ ﻳﺠﺮﻳﻚ ” ﻗﺎﻝ : ﻓﺄﻟﻘﻰ ﺍﻟﺒﻄﺎﻗﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﻴﻞ ﻓﺄﺻﺒﺤﻮﺍ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺴﺒﺖ ﻭﻗﺪ ﺃﺟﺮﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻨﻴﻞ ﺳﺘﺔ ﻋﺸﺮ ﺫﺭﺍﻋﺎ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻭﻗﻄﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻋﻦ ﺃﻫﻞ ﻣﺼﺮ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻴﻮﻡ
চিঠিখানার মর্ম
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“এই চিঠি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা হযরত ফারূক্বে আ’যম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আন পক্ষ হতে মিসরের নীলনদের নামে। হে নীলনদ! তুমি যদি নিজের ইচ্ছায় প্রবাহিত হয়ে থাকো, তাহলে তোমার পানি আমাদের কোনো দরকার নেই। আর যদি তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকে প্রবাহিত হয়ে থাকো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজু করছি তিনি যেনো তোমাকে প্রবাহিত করান।”
বর্ণনাকারী বলেন, চিঠিখানা নীলনদে নিক্ষেপ করা মাত্র পানি বাড়তে থাকে, পূর্ববর্তী বছরগুলো অপেক্ষা পানি ১৬ হাত বেড়ে যায় এবং সেদিন থেকে নীলনদে কুমারী নিক্ষেপ বা উৎসর্গ করার জাহিলী যুগের কুফরী প্রথা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
হচ্ছে এই-

No comments:

Post a Comment