Tuesday, May 10, 2016

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করেছেন।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহুম
 উনারা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন
 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক মুবারক
 করেন, ‘হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহুম উনারা যেভাবে পবিত্র ঈমান
 এনেছেন, জিন-ইনসান যদি সেভাবে পবিত্র ঈমান
 আনে তাহলে তারা অবশ্যই হিদায়েত লাভ করবে।’
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
 ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
 মুবারক করেন, ‘আমার সুন্নত মুবারক
 এবং সুপথপ্রাপ্ত হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন
 আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত মুবারক
 পালন করা আপনাদের উপর ওয়াজিব।’
হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম
 উনারা প্রত্যেকেই সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ,
সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর
 পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন
 এবং অন্যদেরকেও পালন করার ব্যাপারে উৎসাহ
 প্রদান করেছেন।
 অতএব, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা ও জিন-
ইনসান সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হযরত
 খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের
 অনুসরণে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ,
সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর
 পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা।
 মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহুম উনারা যেভাবে পবিত্র ঈমান
 এনেছেন, জিন-ইনসান যদি সেভাবে পবিত্র ঈমান
 আনে তাহলে তারা অবশ্যই হিদায়েত লাভ করবে।”
সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার
 মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ফক্বীহুল উম্মত
 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন,
যে ব্যক্তি সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার
 সঠিক তরীক্বা অনুসরণ করতে চায়, তার উচিত
 যাঁরা অতীত হয়েছেন বা পবিত্র বিছাল শরীফ
 গ্রহণ করেছেন উনাদেরকে অনুসরণ করা।
 কেননা যারা জীবিত রয়েছেন
 তারা ফিতনা থেকে নিরাপদ নন। যাঁরা পবিত্র
 বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন উনারা হলেন-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
 ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রিয়
 হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহুম। উনারা উম্মতের
 মধ্যে সর্বোত্তম, আত্মার দিক
 থেকে উনারা অধিক পবিত্র, ইলমের দিক
 দিয়ে গভীর, উনারা লোক দেখানো আমল
 করা হতে মুক্ত। মহান আল্লাহ পাক
 তিনি উনাদেরকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে উনার
 প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর
 পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
 সঙ্গী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
 সুতরাং উনাদের মর্যাদা সম্পর্কে তোমরা অবগত
 হও এবং উনাদের কথা ও কাজের অনুসরণ
 করো এবং যথাযোগ্য উনাদের গুণাবলী ও মুবারক
 চরিত্রকে গ্রহণ করো। কারণ উনারা হিদায়েত ও
 সীরাতে মুস্তাকীম উনার উপর দৃঢ় ছিলেন।”
সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবা আজমাইন রদ্বিয়াল্লাহু
 তায়ালা আনহুম উনাদের বিশাল কাফিলার
 মধ্যে প্রধান হলেন হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন
 আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম চার
 খলীফা আলাইহিমুস সালাম। উনাদের ছানা-
ছিফত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক বর্ণনার
 অপেক্ষা রাখে না।
 যদিও আমভাবে প্রত্যেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম
 রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ও
 অনুসরণ পরবর্তী সকল উম্মতের জন্য হিদায়েত,
জান্নাত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভের কারণ
 বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত
 খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের
 মুহব্বত ও অনুসরণের ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব
 দেয়া হয়েছে।
 হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন উনার চার
 খলীফা উনারা প্রত্যেকেই সম্মানিত সাইয়্যিদুল
 আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার পাশাপাশি অন্যকেও
 পালন করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন;
যা বিশ্ব সমাদৃত ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল
 আলাম’ কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
 আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু
 রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর
 আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে এক দিরহাম
 ব্যয় করবে সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।”
সুবহানাল্লাহ!
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত
 ফারক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ
 মর্যাদা দিলো সে মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম
 উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলো।” সুবহানাল্লাহ!
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন
 আলাইহিস সালাম তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুল
 আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ
 করলো, সে যেনো বদর ও হুনাইন যুদ্ধে শরীক
 থাকলো।” সুবহানাল্লাহ!
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত
 কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম
 তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন
 নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
 পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার
 প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো,
সে ব্যক্তি অবশ্যই পবিত্র ঈমান
 নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায়
 নিবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
সুবহানাল্লাহ!
যে বা যারা বলছে, ‘খইরুল কুরূনের মধ্যে পবিত্র
 ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু
 আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার অস্তিত্ব
 ছিলো না’ কিংবা ‘হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন
 আলাইহিমুস সালাম কিংবা হযরত
 ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম
 উনাদের কেউই পবিত্র ঈদে মীলাদুন
 নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
 পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন
 করেননি’- তারা বিনা দলীল-
প্রমাণে তা বলে থাকে। তাদের সে কথা চরম
 মিথ্যার শামিল। আর মিথ্যাবাদীদের উপর মহান
 আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হয়।
 মূলকথা হলো- হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন
 আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই
 সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম,
সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন
 নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
 পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন
 এবং অন্যদেরকেও পালন করার ব্যাপারে উৎসাহ
 প্রদান করেছেন। অতএব, প্রত্যেক মুসলমান
 পুরুষ-মহিলা ও জিন-ইনসান সকলের জন্য ফরয-
ওয়াজিব হচ্ছে, হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন
 আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণে সাইয়্যিদুল
 আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম,
সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন
 নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
 পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা।

No comments:

Post a Comment